মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

নদ-নদী

বাংলাদেশনদীমাতৃকদেশ, নদ-নদীছাড়াআমাদেরঅস্তিত্বকল্পনাকরা যায় না। বৃহত্তর যশোর জেলা পৃথিবীর বৃহত্তম গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ-এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল ‌`সমভূমির’ অন্তর্গত হলেো যশোর অঞ্চলের ‌ভূ-ভাগটি অসংখ্য খাল, বিল, নদী-নালা ও জলাশয় পরিপূর্ণ। কোটচাঁদপুর উপজেলায়ও রয়েছে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়। এ উপজেলার মধ্যে রয়েছে দু’টি নদ-নদী। যথা : ১. চিত্রা ও ২. কপোতাক্ষ।

 

চিত্রা

চিত্রা মাথাভাঙ্গা নদীর একটি শাখা নদী। জয়রামপুর রেলষ্টেশনের কাছে মাথাভাঙ্গা থেকে এর জন্ম। অতীতে এটি মহেশ্বর নদী নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু নামকরণের কোন যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। মাথাভাঙ্গার জলস্রোত বঞ্চিত হয়ে চিত্রা দক্ষিণ-পূর্ব মুখে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর থেকে চুয়াডাঙ্গা উপজেলার খাড়াগোদা পর্যন্ত ১৬ কি.মি. দূরত্ব আঁকাবাঁকাভাবে ২০ কি.মি. প্রবাহিত হয়। খাড়াগোদাহতে চিত্রা নদীর উৎপত্তি। উৎপত্তিস্থল হতে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলারগোরাখালি, নড়াইল এবং গোবরা অতিক্রম করে দক্ষিণে উজিরহাটের নিকট আতাই নদীর সহিত মিলিত হয়েছে।রেনেলের (১৭৮০) মানচিত্রে দেখা যায় এই নদীটি দামুড়হুদা হতে তিন মাইল নিম্ন পর্যন্তঅতি সংকীর্ণ পথে প্রবাহিত হয়ে কালীগঞ্জ ও গোরাখালির মধ্যবর্তীস্থানে দু’টি শাখায় বিভক্ত হয়ে গেছে। একটি চিত্রা নামেই প্রবাহিত হয়ে নবগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলায় চিত্রা নদীর আয়তন ২৮৩.১৭ হেক্টর। চিত্রা নদী কোটচাঁদপুর উপজেলার ধোপাবিলা, লক্ষ্মীপুর, মল্লিকপুর, শিবনগর, বাঙ্গালিপুর, রুদ্রপুর, সারুটিয়া, তালসার, ঘাঘা, জালালপুর, তালিনা, আরজি গান্না, ইকড়া, ফাজিলপুর এর পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে। এছাড়া জানা যায় ১০০ বছর পূর্বে নীলকর’রা এ নদী দিয়ে যাতায়াত করত।এ নদীটি কোটচাঁদপুর উপজেলার অংশে প্রায় মৃত। বর্ষাকালে অল্প সময়ের জন্য পানি থাকে। বর্তমান অবস্থায় নৌ চলাচলের জন্য অনুপযোগী।

 

কপোতাক্ষ নদ

কপোতাক্ষ মাথাভাঙ্গার অন্যতম শাখা নদী। সুবলপুরের কাছে ভৈরব যেখানে মাথাভাঙ্গায় তার দক্ষিণে কপোতাক্ষের উৎপত্তি। ... দর্শনা থেকে কপোতাক্ষের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়, যেটি প্রথমে উত্তর ও পরে দক্ষিণমূখী হয়ে সন্তোষপুর, মনোহরপুর, ধোপাখালি, কালা ইত্যাদি স্থানের পাশ দিয়ে জীবননগর পৌঁছায়। এরপর উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে বিদ্যানাথপুর, খয়েরহুদা, মিজানপুর, কাশিমপুর, মোক্তারপুরকে পাশে রেখে কুলতলা পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে পূর্ব দিকে এঁকে বেকেঁ মারূফদহের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর, গোয়ালহুদা, ভালাইপুর, সুন্দরপুর, পরানপুর, জগন্নাথপুর, দুধসরা, কোটচাঁদপুর, সলেমানপুর, পাশপাতিলা, বলাবাড়িয়া, বাগডাঙ্গা প্রভৃতি জায়গার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুরের নিকট গতি পরিবর্তন করে চৌগাছা, ঝিকরগাছা, সাগরদাড়ি, ত্রিমোহনী, তালা, কপিলমুনি, রাড়ুলি, চাঁদখালী, কয়রা, বেদকাশি হয়ে সুন্দরবনের মধ্যে আড়পাংগাসিয়া নদীর মাধ্যমে সমুদ্রের মালঞ্চ মোহনায় পতিত হয়েছে।কপোতের আঁখি থেকে নদীর নাম কপোতাক্ষ হয়েছে। কিন্তু এ নদী চুয়াডাঙ্গা জেলায় কপোতাক্ষ নামে পরিচিত নয়। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় কপোতাক্ষ স্বনামে পরিচিত, যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নথিপত্রে এ অংশকে ভৈরব নদী নামে অভিহিত করা হয়েছে। বর্তমানে চৌগাছার তাহিরপুর থেকে দর্শনা পর্যন্ত নদীকে ভৈরব নদী হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাহিরপুর থেকে দর্শনা সীমান্তেচেকপোষ্ট পর্যন্ত এ নদীর দুরত্ব প্রায় ১১০ কি.মি.। তাহিরপুর থেকে ভৈরব নিজ নামে পূর্ব দিকে যশোর অভিমুখী হয়েছে। আর কপোতাক্ষ দক্ষিণমুখী হয়েবঙ্গোপসাগরের দিকে গেছে। এর মধ্যে এ নদীটি কোটচাঁদপুর উপজেলায় ক্যাচমেন্টভূক্ত এলাকা ৭০৫১ হেক্টর। ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে ভৈরবনদীকে এলাকার মানুষ কপোতাক্ষ নদী বলে। এক সময়ে এ নদী প্রবহমান ও বেগবতী ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি মৃত নদী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর গতি আঁকাবাঁকা। কোন কোন স্থানে নদীটি পলি অবক্ষেপনে ও আগাছায় পরিপূর্ণ। চৈত্র মাসে স্থান বিশেষে ২-৪ ফুট পানি থাকে। এ অংশে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর এলাকায় নদীতে পাটা ও কোমর দেওয়ার পরিমাণ অনেক বেশী। পাটা ও কোমর দেওয়া এলাকায় পলি নদী ভরাট হচ্ছে। বর্তমানে কোটচাঁদপুর অংশে নৌ-চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

 

(লেখক- দেব নারায়ণ, সহকারী শিক্ষক, তালসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়)